বাগেরহাটে অস্ত্রের মুখে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

  • আপডেট টাইম : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:২১ পূর্বাহ্ণ
  • /
  • 152 বার পঠিত

বাগেরহাটের কচুয়ায় অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী (১৪) দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাবা-মা বাড়িতে না থাকার সুযোগে কচুয়া উপজেলার কলমিবুনিয়া গ্রামে ওই শিক্ষার্থীর ঘরে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে স্থানীয় চার বখাটে তাকে ধর্ষণ করে।

গুরুতর আহত অবস্থায় শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে ওই শিক্ষার্থীকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে তার পরিবার। এদিকে ধর্ষকদের আটক করতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

নির্যাতিতা কিশোরী কচুয়া উপজেলার মসনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী কিশোরী জানায়, বুধবার তার বাবা-মা বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে যায়। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এজাজুল মোল্লা, সোহেল শেখ, টিপু শেখ ও সজিব মোল্লা জোরপূর্বক তাদের ঘরে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে তারা তার গলায় ছুড়ি ধরে এবং দড়ি দিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। তাদের অত্যাচারে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

ধর্ষণে অভিযুক্তরা হলো- এজাজুল মোল্লা (২২), সোহেল শেখ (২২), টিপু শেখ (২৫) ও সজিব মোল্লা (২৫)। এদের সবার বাড়ি কলমিবুনিয়া গ্রামে। তারা এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয় অনেক মেয়ের সঙ্গে এর আগেও তারা খারাপ ব্যবহার করেছে জানিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইব্রাহিম মোল্লা বলেন, বাধাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নকিব ফয়সাল অহিদসহ আমরা সকলে মিলে মেয়েটিকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। আমরা বখাটেদের কঠোর শাস্তি চাই।

শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, প্রতিবেশীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে আমরা বাড়িতে আসি। মেয়ের কাছে বিষয়টি শুনে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় হাসপাতালে নিয়ে আসি। আমি আমার মেয়ের ধর্ষণকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

বাগেরহাট সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স তুলসী রাণী বিশ্বাস বলেন, মেয়েটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধর্ষণের ফলে মেয়েটি খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমরা তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করছি।

বাগেরহাট সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় মেয়েটির শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। আমরা মেয়েটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করছি।

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আছাদুজ্জামান বলেন, খবর শুনে নির্যাতিতা মেয়েটিকে দেখতে হাসপাতালে এসেছি। ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ভয় না পেয়ে মেয়েটির চিকিৎসা চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। অভিযুক্তদের আটক করতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.