শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি পদে আমলাদের দায়িত্ব দেওয়ায় সংসদে ক্ষোভ

  • আপডেট টাইম : ২৯ জুন ২০২১, ০৯:৩৯ অপরাহ্ণ
  • /
  • 59 বার পঠিত

সংসদ সদস্যসহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে সরিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল-কলেজ) সভাপতি পদে আমলাদের (ইউএনও) দায়িত্ব দেওয়ায় নিজেদের অসম্মানিতবোধ করছেন সংসদ সদস্যগণ। তারা দীর্ঘ দিনেও বিষয়টি সুরাহা না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।

আজ মঙ্গলবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে অর্থবিলের ওপর আনীত সংশোধনী প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এ বিষয়ে সংসদেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান ও বিএনপির মোশাররফ হোসন।

সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেন, সংসদ সদস্যগণ বিভিন্ন কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ছিলেন। সেখান থেকে সংসদ সদস্যদের কে বাদ দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বসানো হয়েছে। তিনি বলেন, এই সংসদের অনেক সংসদ সদস্য আছেন, রাজনীতিবিদরা আছেন, তারা অনেকেই নিজেদের এলাকায় নিজেদের অর্থে বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। কিন্তু অসম্মানজনক ভাবে তাদেরকে এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানের সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুততার সাথে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় চিঠি ইস্যু করে ইউএনওদের সেখানে বসিয়েছে।

তিনি বলেন, বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীকে জানিয়েছিলাম, শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, তিনি এটির বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। কিন্তু এখনো সেই আপিলের সুরাহা হয়নি। তাই শিক্ষামন্ত্রীকে বলব, অন্তত আপিলটা প্রত্যাহার করে নেন। ওখানে ইউএনও সাহেবরাই থাকুক, তাহলে অন্তত সংসদ সদস্যদের সম্মানটা বজায় থাকবে।

তাঁর বক্তব্যের সূত্র ধরে বিএনপির মোশারফ হোসেন বলেন, ১৭ কোটি মানুষের নিয়ন্ত্রক হিসেবে আমরা ৩০০ জন সংসদ সদস্যকে নির্বাচিত করি, সাথে ৫০ জন সংরক্ষিত আসনে নারী সদস্য থাকেন। একটা কোর্টের রায়কে নিয়ে এতোদিন ভেলকিবাজি করা হচ্ছে। কেন আমরা কোর্টের কাছে দ্বারস্থ হব? আইনের প্রতি শ্রদ্ধা আমাদের অবশ্যই আছে। কিন্তু আইনি জটিলতার কাছে আত্মসমার্পণ করলে আমাদের সম্মানটা থাকে কোথায়?

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা যখন এলাকায় ভোট করি এবং ভোটের স্বার্থে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আমাদের নির্বাচিত করে। আমরা সেখানে এমপি আছি, আমাদের মতো অনেক জনপ্রতিনিধি ভোট করে নির্বাচিত হয়েছে। তারা কিন্তু ওই এলাকাতেই থাকবে। তারা ওই এলাকা থেকে যাবে না। একজন এডমিন ক্যাডার এক জায়গায় তিন থেকে পাঁচ বছর থাকে। তারপর ওখান থেকে তার নির্বাচনী এলাকায় নয়, সরকারি নিয়মে আর একটা উপজেলা বা জেলায় চলে যান। সেক্ষেত্রে ওখানকার দায় দায়িত্ব আমাদের উপরে আসে। যদি আমরা খারাপ করি ওখানকার জনগণ আঙুল তুলে কথা বলবে, তোমরা খারাপ কাজ করেছো। কিন্তু যারা এডমিন ক্যাডার তারা ওখান থেকে স্থান ত্যাগ করে চলে যাবে, তারপর বড় বড় মন্ত্রণালয়ের দয়িত্ব পাবে। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব জনপ্রতিনিধিদের দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *