শত শত গ্রাম ও মৎস্য ঘের পানির নিচে ভুক্তভোগী জনতার বাধ কাটার হুমকি

  • আপডেট টাইম : ১ আগস্ট ২০২১, ০৭:৫৮ অপরাহ্ণ
  • /
  • 111 বার পঠিত

এইচ এম নাসির উদ্দিন কাটাখালি, বাগেরহাট থেকেঃ পশর নদীতে বাধ। কৃত্রিম জ্বলাবদ্ধতা সৃষ্টি, কয়েকশত মাছের ঘের পানির নিচে, কয়েক হাজার বিঘা জমির ফসল নষ্ট। ঘটনাটি ঘটেছে বাগেরহাট ও খুলনার সিমান্ত বর্তী ফকিরহাট এবং বটিয়াঘাটার সংযোগস্থল খাজুরা ও নারানখালি মৌজায় কৃত্রিম ভাবে পশর নদীতে বাধ দিয়ে জ্বলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে নব-নির্মিত খুলনা মোংলা রেল প্রকল্প। ভুক্তভোগী গ্রামবাসি সংঘবদ্ধ হয়ে কৃত্রিম জ্বলাবদ্ধ সৃষ্টির বাধটি ৩০ জুলাই শনিবার দুপুরে আংশিক কেটে দেয় এবং কৃত্রিম বাধ সৃষ্টিকারি রেল কর্তৃপক্ষ আগামী ২৪ ঘন্টার ভেতর ব্যবস্থা না নিলে ভুক্তভোগী গ্রামবাসি ৩১ জুলাই পুরো বাধটি কেটে দিবে বলে জানান।
সরেজমিন ঘুরে জানা যায় বাগেরহাট ও খুলনা জেলার সীমান্তবর্তী ফকিরহাট এবং বটিয়াঘাটা উপজেলার খাজুরা ও নারানখালি মৌজার সিমানায় মরা পশর নদীর অগ্রভাগের উপর দিয়ে নব-নির্মিত রেল রোডের সেতু তৈরীর কাজ চলছিল প্রায় ২ বছর পূর্ব থেকে। গত বছর বৃষ্টির মৌসুমে একই স্থানে বাধ দেওয়ার কারনে জ্বলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী জনগন রেল সড়কের জন্য নিরবতা পালন করলেও চলতি বছর পুনরায় একই সমস্যা সৃষ্টি হয়। রেল কর্তৃপক্ষ উক্ত স্থানে ব্রীজের কাজ সম্পন্ন হলেও আংশিক অন্যান্য কাজের গাফিলতির জন্য কয়েক হাজার বিঘা জমির ফসল নষ্ট হয়েছে, শত শথ মাছের ঘের রয়েছে পানির নিচে। ভুক্তভোগী জনসাধারণ রেল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দারস্থ হন। রেল কর্তৃপক্ষের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি প্রথম থেকেই জনসাধারণকে বিভিন্ন ওজুহাত দেখাতে থাকে। এক পর্যায়ে জনসাধারণ স্থানীয় ইউপি সদস্যগনের সমন্বয়ে ফকিরহাট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান স্বপন দাশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা বেগমের দারস্থ হলে তারা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা বেগম ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান স্বপন দাশ এ প্রতিবেদককে জানান আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদেরকে অবহিত করেছি। যেহেতু তারা কোন ব্যাবস্থা অদ্যবধি নেয়নি এখন জনগন যেটা ভালো মনে করে তারা সেটা করবে। ইউপি সদস্য বজলুর রহমান মোড়ল, শেখ হারুন-অর রশিদ, মোঃ আরিদ জমাদ্দার জানান আমরা গ্রামবাসিকে সঙ্গে নিয়ে নিজেদের বাচার স্বার্থে আগামীকাল রবিবার সৃষ্ট বাধটি কেটে দিতে পারি। তারা আরো জানান এই বাধের কারনে খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার নারানখালি, হাতিরাবাদ, নারানপুর, আমিরপুর, জয়পুর, ঝিনাইখালি, বাইনতলা ও বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার ভট্টখামার, ভবনা, মাসকাটা, ধনপোতা, বেতাগা, কুমারখালি, চাকুলি, বিঘাই, শুভদিয়াসহ কয়েকশত গ্রাম পানির নিচে, মাছের ঘের ও জমির ফসল বিনষ্ট হয়ে গেছে। বসত ঘর ও পানের বরজ তলিয়ে গেছে, রান্না খাওয়া বন্ধ। এমতাবস্থায় যেকোন মুহুর্তে যেকোন ঘটনা ঘটে যেতে পারে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের স্বাক্ষাৎকার নেওয়ার পর, রেল কর্তৃপক্ষের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় প্রকৌশলী মাসুদ রানা জানান আমরা ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আজই বাধ অপসারন করা হবে।##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *