বাগেরহাটের ফকিরহাটে অধিকাংশ বিলে চলতি আউশ মৌসুমে ধানের আবাদে বাম্পার ফসল ফলতে শুরু করেছে

  • আপডেট টাইম : ১৯ আগস্ট ২০২১, ০৮:২৭ অপরাহ্ণ
  • /
  • 92 বার পঠিত

বাদশা আলমঃ বাগেরহাটের ফকিরহাটে অধিকাংশ বিলে চলতি আউশ মৌসুমে ধানের আবাদে বাম্পার ফসল ফলতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে কৃষকের ধান ঘরে তুলতে কোন আসুবিধা হবে না। কৃষি অফিসের অক্লান্ত পরিশ্রম ও পরামর্শ এবং কৃষকদের মাঝে বীজ সার সহ নানা উপকরণ সামগ্রী বিতরন করার কারনে বাম্ফার ফসল হয়েছে।

জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য উপজেলা কৃষি অফিস হাটে মাঠে ঘাটে এসে তাদের হাতে কলমে স্থানীয় কৃষকদের নানা প্রকার পরামর্শ দেওয়া সহ বীজ সার ও বিভিন্ন প্রকার উপকরণ সামগ্রী বিতরন করে আসছেন। যার ফলে স্থানীয় কৃষকরা উদ্ভুদ্ধ হয়ে যার যে টুকু জায়গা আছে সেই জায়গা টুকু ফেলে না রেখে তারা ফসল ফলাবার জন্য নিজেদের নিয়োজিত করেছেন।

এ অবস্থায় উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের হাজার হাজার কৃষক নানা প্রকার ধানের চাষ করে আজ তারা বেশ স্বাবলম্বি হয়েছেন। আর স্বাবলম্বি হয়েছেন বলেই আজ তারা করোনা পরিস্থিতি সহজেই মোকাবেলা করতে পেরেছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি আউশ মৌসুমে ৮৩হেক্টর জমিতে স্থানীয় কৃষকরা ব্রি-৭১,৫২,৪৯,৮৭,৭৩,৭৬,৭৫,ধানের চাষ করেছেন। এছাড়াও বিনা ধান-১৭, ২২ ও ২৩ ধানের চাষও করেছেন কৃষকরা।

সরেজমিনে অনুসন্ধ্যান করে দেখা গেছে, মানসা-বাহিরদিয়া ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া বিল,নান্দোর বিল, গোয়ালের বিল, বড়বাড়িয়া বিল ও লালচন্দ্রপুর বিল সহ বেশ কয়েকটি বিলে চলতি আউশ মৌসুমে আউশ ধানের আবাদ করেছে। চারপার্শ্বে শুধু সবুজ আর সবুজে মন প্রাণ ভরে যায়। নান্দোর বিলের কৃষক আলীউল মোড়ল, অলিউর মোড়ল, বলাই চন্দ্র শীল, শিবপদ শীল, আব্দুর রাজ্জাক, শফিকুল মোড়ল, মহসিন শেখ ও নাজিম উদ্দিন শেখ সহ বিভিন্ন কৃষকরা জানান, তাদের বিলে আগে একবার এর বেশি ধান চাষ করা সম্ভব হতো না। কারণ বর্ষা মৌসুম আসলে বৃষ্টির পানি কারনে বিলের কানাই কানাই পানি ভরে যেতো।

যার কারনে তারা প্রায় ১যুগেরও বেশি সময় ধরে ঐ বিলে আউশ ধানের চারা রোপন করতে পারতো না। আর না পারায় করণে তারা দুর্বিসহ জীবন যাপন করতো। সেই দুঃখ র্দুদশা দেখে মানসা-বাহিরদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও আ,লীগ নেতা মোঃ রেজাউল করিম ফকির দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন করেন। তিনি নান্দোর বিলের পানি যাহাতে সহজেই নদীতে নামতে পারে সে জন্য তিনি বৃহৎ আকারের ১টি ড্রেন নির্মাণ করেন। আর এই ড্রেন নির্মান করার পর হতে এ অ লের শতশত কৃষক দ্বিতীয় ব্লক করতে পারছেন।

কৃষকরা বলেছেন ড্রেন নির্মাণ করার পর হতে তারা বছরে দুইবার (ইরি-বোরো ও আউশ) ধান রোপন করছেন। তাতে করে তাদের গোলাই এখন ধান তুলতে কোন অসুবিধা হচ্ছেনা। তারা বাকি অন্যান্য বিল গুলি হতে যাহাতে সহজেই পানি নিষ্কাশন করা যায় সে বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাছরুল মিল্লাত এর সাথে আলাপ করা হলে তাঁরা বলেন,আমরা করোনা কালিন সময়ে যাহাতে কোন কৃষক কর্মহীন হয়ে না পড়েন সে জন্য সরকারী নির্দ্দেশনা মোতাবেক কৃষকদেরকে হাতে কলমে নানা প্রকার প্রশিক্ষন দেওয়া সহ তাদেরকে বীজ সার কীটনাশন ও কৃষি উপকরণ সামগ্রী প্রদান করে আসছি। যার ফলে কৃষকরা তাতে আরো উদ্ভুদ্ধ হয়ে তাদের নিজনিজ জমি ফেলে না রেখে তাতে ধান সহ অন্যান্য ফসল ফলাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *