ফকিরহাটের উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চলছে নানান গুনঞ্জন

  • আপডেট টাইম : ২ জানুয়ারি ২০২২, ০৮:১৪ অপরাহ্ণ
  • /
  • 41 বার পঠিত

এইচ এম নাসির উদ্দিন, ফকিরহাট প্রতিনিধি।
জেলার ফকিরহাট উপজেলার লখপুর বাসষ্ট্যান্ডে সরকারি পুকুর ও কাটাখালির নওয়াপাড়া কলেজ রোডের দু’পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়ে জনমনে ব্যাপক গুঞ্জন। রবিবার দিনভর উভয় স্থানে জেলা পরিষদ কর্তৃক উচ্ছেদ অভিযানকালে জনগনের নানা প্রশ্নের সম্মুখিন হন ভ্রাম্যমান আদালত।
সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাট জেলা পরিষদের আওতাধীন সরকারী রাস্তার পাশে শতাধিক অবৈধ্য স্থাপনা গড়ে উঠেছে। রবিবার সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা পরিষদ কর্তৃক লখপুর ও কাটাখালী বাষ্ট্যান্ডে অভিযানের কার্যক্রম চলে। ভ্রাম্যমান এ আদালতে অভিযান পরিচালনা করেন ফকিরহাটের সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট বিধান কান্তি হালদার। প্রত্যাদর্শীরা জানান, উপজেলার লখপুর বাসষ্ট্যান্ডের পশ্চিম পার্শ্বে জেলা পরিষদের আওতাধীন সরকারী পুকুরের পাড়ের চারপাশ ঘিরে প্রায় ১৫টি ভুমিহীন পরিবার বসবাস করছে। এছাড়াও পূর্বপার্শ্বে মোজাফফার মোড়ল নামে একজন ব্যাক্তি সরকারী জায়গা দখল করে সেখানে একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। তাদেরকে বারবার মৌখিক ও লিখিত ভাবে নোটিশ প্রদান করলেও দখলকারীরা তাতে কোন কর্ণপাত করেনি। যে কারণে সরকারী জায়গা দখলমুক্ত করতে এই অভিযান শুরু করা হয়েছে। তবে পুকুর পাড়ের ১৫টি ভুমিহীন পরিবারকে আগামী তিন দিনের মধ্যে সারকারী জায়গা ছেড়ে দেওয়ার সময় বেধে দেন আদালত। পূর্বপার্শ্বে জনৈক মোজাফফার মোড়লকে ১ মাস সময় দেন তার স্থাপনা সরকারী জায়গা থেকে অপসরন করার জন্য।
কাটাখালী কলেজ রোডের সুমন মার্কেট ক্ষ্যাত এবং তার সাইড সোল্ডারে সিমানার প্রচীর নির্মাণকারী জৈনক সাহেব আলী ও হ্যামকো ইন্ডাষ্ট্রির প্রাচীর দ্রুত সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমান এ আদালত। নির্দ্ধারিত সময়ের মধ্যে দখলকারীরা স্ব স্ব উদ্যোগে যদি তাদের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনসহ আবারও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট বিধান কান্তি হালদার জানিয়েছেন। এদিকে দখলকারী ভুমিহীনরা বলেন, তারা উক্ত সরকারী এ জায়গায় যুগ যুগ যাবৎ বসবাস করে আসছেন, তাদেরকে সরকারী ভাবে জায়গা ও ঘর বেধে দিলে তারা জায়গা ছেড়ে দিবেন। অপর দিকে কাটাখালীর কলেজ রোডের একাধিক দখলকারীরা অভিযোগ করে বলেন, তারা বারবার জেলা পরিষদকে তাদের সিমানা নির্ধারনের জন্য অনুরোধ করলেও কর্তৃপ কোন কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগ করেন। তারা সার্ভেয়ার এর মাধ্যমে তাদের জায়গা মেপে সিমানা নির্ধারন করার জোর দাবী করেন। অভিযানকালে অন্যান্যের মধ্যে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা একেএম জাকির হোসেন, প্রধান সহকারী গৌরাঙ্গ কুমার পাল, গ্রাফার সাকিল হোসেন, সার্ভেয়ার মোঃ ইমরান, অফিস সহায়ক মোঃ রফিকুল ইসলাম, মোঃ ইকবাল হোসেন ও সড়ক ও জনপদ বিভাগের সার্ভেয়ার মিজানুর রহমান, ফকিরহাট উপজেলা সার্ভেয়ার তফাজ্জেল হোসেন এর মধ্যে সিমানা নির্ধারন নিয়ে দেখা দিয়েছে নানান মতবিরোধ। অভিযান চলাকালে বিদ্যুতের লোক না থাকায় বুলড্রেজার ব্যবহারে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় উচ্ছেদ অভিযানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে বলে ভ্রাম্যমান আদালত জানান। এলাকার সুশিল সমাজের প্রশ্ন আদো সরকারী জায়গা উচ্ছেদ হবেকিনা? না অজ্ঞাত কারণে এ অভিযান থেমে যাবে? এ সকল বিষয় নিয়ে জনমনে চলছে নানান গুনঞ্জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *