আজই ১ কোটি টিকা দেওয়া হবে

  • আপডেট টাইম : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ
  • /
  • 140 বার পঠিত

আজ দেশের এক কোটি মানুষকে দেওয়া হবে করোনা টিকার প্রথম ডোজ। প্রস্তুত করা ২৮ হাজার কেন্দ্রে সকাল থেকে শুরু হয়েছে টিকা দেওয়া। এর মধ্য দিয়ে ৭০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনার টার্গেট পূরণের প্রত্যাশা করছে সরকার।জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন কার্ড দেখিয়ে টিকা নেওয়া যাবে। মোবাইল নম্বরের মাধ্যমেও নেওয়া যাবে টিকা। এক কোটি মানুষকে টিকা কার্যক্রমের দিন দ্বিতীয় ও বুস্টার ডোজপ্রত্যাশীদের শৃঙ্খলায় আনতে পৃথক জোনে ভাগ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ।


এদিকে রাজধানীর বেশির ভাগ কেন্দ্রে বেড়েছে টিকাগ্রহীতার সংখ্যা। সকাল থেকেই ভিড় করছেন টিকাগ্রহীতারা। আজকের পর থেকে করোনার প্রথম ডোজপ্রত্যাশীরা টিকা পেতে কম গুরুত্ব পাবেন, এ ঘোষণার উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে বিভিন্ন টিকাকেন্দ্রে। এত দিন যারা নানা অজুহাতে টিকা নেননি, বাড়ির কাছে পেয়ে ছুটে যাচ্ছেন করোনার সুরক্ষাবর্ম নিতে।

সারা দেশে ২৮ হাজার বুথে শনিবার সকাল ৯টা থেকে টিকা দেওয়া শুরু হয়। এসব বুথে টিকা দেওয়ার কাজে যুক্ত রয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকসহ মোট ১ লাখ ৪২ হাজার জন। দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে নির্ধারিত টিকাকেন্দ্রের বাইরেও পাঁচটি করে ভ্রাম্যমাণ দল (তারাও টিকা দেবেন) রয়েছে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের প্রতিটি অঞ্চলে ৩০ থেকে ৫০টি করে বুথে টিকা দেওয়া হচ্ছে। লোকজনকে টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে গত কয়েক দিন মাইকিং, গণবিজ্ঞপ্তিসহ বিশেষ প্রচার চালিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

দেশে করোনার গণটিকাদান শুরু হয় গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি। এরপর থেকে গত বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত করোনার প্রথম ডোজ টিকা পেয়েছেন ১০ কোটি ৮ লাখের বেশি মানুষ। আর এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজ টিকা পেয়েছেন ৮ কোটি ১৭ লাখের বেশি মানুষ।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক এ বি এম খুরশিদ আলম সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন হবে ২৬ ফেব্রুয়ারি।


এরপর প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া বন্ধ থাকবে। ওই ঘোষণার পর দেশের টিকাদানকেন্দ্রগুলোতে ভিড় বাড়তে থাকে। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, ২৬ ফেব্রুয়ারির পরও প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া বন্ধ হবে না। তবে প্রথম ডোজের চেয়ে দ্বিতীয় ও বুস্টার (তৃতীয়) ডোজকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

দেশে করোনা পরীক্ষার বিপরীতে দৈনিক শনাক্তের হার ধারাবাহিকভাবে কমছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। গত সাত সপ্তাহের মধ্যে এটি সর্বনিম্ন শনাক্তের হার।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ২৫ হাজার ৬৬৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্ত হয় ১ হাজার ৪০৬ জন। আর গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমিত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশে করোনা পরিস্থিতি প্রায় সাড়ে তিন মাস নিয়ন্ত্রণে থাকার পর গত ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে রোগী বাড়তে শুরু করে। করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের দাপটে রোগী শনাক্তের সংখ্যা ও হার দ্রুত বাড়তে থাকে। ১৭ জানুয়ারি থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দৈনিক শনাক্তের হার ২০ শতাংশের বেশি ছিল। এরপর নিয়মিত রোগী শনাক্ত ও শনাক্তের হার কমছে।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনার সংক্রমণ শনাক্তের ঘোষণা দেয় সরকার। সংক্রমণের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১৯ লাখ ৪১ হাজার ৫৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৭ লাখ ৯৩ হাজার ৮২ জন। মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ১৬ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ৯৩৬ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.